Spread the love

চিন নির্ভরতা কমাতে তত্‍পর কেন্দ্র, শিল্প মহলের কাছে চাওয়া হল আমদানি করা পণ্যের তালিকা| দেশজুড়ে চিনা পণ্য বয়কটের আওয়াজ উঠেছে। কিন্তু বাস্তবে তা কতখানি সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই চিন থেকে আমদামি করতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে চিন নির্ভরতা কমাতে তত্‍পর হল কেন্দ্রীয় সরকারও। চিন থেকে যে যে পণ্য আমদানি করা হয় তার তালিকা তো চাওয়া হয়েছেই, তার সঙ্গে সেগুলি ভারতে উত্‍পাদিত হলে দাম কত দাঁড়ায় । উত্‍পাদনের ক্ষেত্রে কর সংক্রান্ত কী কী অসুবিধা রয়েছে, তাও শিল্পমহলের কাছে জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকার মনে করছে, এর ফলে যেমন চিন থেকে নিম্নমানের বহু পণ্যের আমদানি কমানো যাবে, তেমনই দেশে উত্‍পাদিত পণ্যের পরিমাণও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতিকেই আরও চাঙ্গা করবে।

সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে হওয়া আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প নিয়ে একটি বৈঠকে চিনের উপরে নির্ভরতা কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। লাদাখ সীমান্তে চিনের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির পরেই দেশে চিনা পণ্য বয়কটের দাবি উঠেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই চিন নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র।

ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশ এখন চিনের দখলে রয়েছে । তার মধ্যে মোবাইল ফোন, টেলিকম, শক্তি ক্ষেত্র, প্লাস্টিকের খেলনা এবং ওষুধের কাঁচামালের জন্যই চিনের উপরে বেশি নির্ভরশীল ভারত।

চিন থেকে যে পণ্য এবং কাঁচামাল বা সরঞ্জাম আমদানি করতে হয়, সেগুলি নিয়ে শিল্প মহলের মতামত এবং পরামর্শ চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তালিকায় রয়েছে হাত এবং দেওয়াল ঘড়ি, ইঞ্জেকশনের অ্যাম্পুল, কাচের রড এবং টিউব, হেয়ার ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেস পাউডার, চোখ এবং ঠোঁটের মেক আপের জিনিস, প্রিন্টিং কালি, রং, তামাকজাত পণ্যের মতো জিনিসের তালিকা রয়েছে।

এর পাশাপাশি ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের মধ্যে কীভাবে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, চিন থেকে আমদানি করা পণ্যগুলির দেশে উত্‍পাদিত হলে তার দাম কত দাঁড়ায়, দেশে উত্‍পাদন ক্ষমতা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে কী কী পণ্য আমদানি হয় এমন বেশ কিছু তথ্যও শিল্প মহলের কাছে চেয়েছে সরকার।

আরো দেখুন:- চিন হামলা করলেই যোগ্য জবাব দিন, সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেন রাজনাথ: সূত্র

চিন নির্ভরতা কমাতে তত্‍পর কেন্দ্র, শিল্প মহলের কাছে চাওয়া হল আমদানি করা পণ্যের তালিকা|শিল্প মহলের এক সূত্র জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তাঁরা এই সমস্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন এবং খুব শিগগিরই তা কেন্দ্রীয় শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রকে পাঠিয়ে দেবেন।

ইতিমধ্যেই টায়ারের আমদানির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত রয়েছে, এমন দেশগুলি থেকে ভারতীয় সংস্থাগুলির অধিগ্রহণের চেষ্টা হলে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যার ফলে চিনা সংস্থাগুলির পক্ষে আর্থিক মন্দার সুযোগ নিয়ে ভারতীয় সংস্থাগুলির দখল নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

২০১৯-এর এপ্রিল মাস থেকে ২০২০-এর ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত চিন থেকে ৬২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে ভারত। ওই একই সময়কালে ভারত থেকে চিনে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চিনের সঙ্গে বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ নিয়ে বার বারই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ২০১৯-এর এপ্রিল থেকে ২০২০-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

By Rajdeep

3 thoughts on “চিন নির্ভরতা কমাতে তত্‍পর কেন্দ্র, শিল্প মহলের কাছে চাওয়া হল আমদানি করা পণ্যের তালিকা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *