শীতের পাওনা খেজুরের রসের নলেন গুড় ও লালী



মেলাঘর: শীতকালের অন্যতম একটি মরসুমি খাবার হল খেজুরের রস ও খেজুরের রস দিয়ে তৈরি নলেন গুড়। শীতকালে নতুন ধানের চাল ও নলেন গুড় দিয়ে তৈরি পায়েস, পিঠেপুলি মজাই আলাদা।

অন্য সকল গাছের সঙ্গে এখন হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছের সংখ্যা। আগে যেখানে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরের একটু বাইরে গেলে রাস্তার পাশে, খেতের আলে, খালি জায়গায় সারি সারি খেজুর গাছ দেখা যেতো। এখন আর এই দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না।

তবে এখনো ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার অন্তর্গত সোনামুড়া মহকুমার মোহনভোগ, চন্দুল, কুকিয়াছড়া ইত্যাদি এলাকায় প্রচুর সংখ্যক খেজুর গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তাই শীতকাল এলেই এই সকল এলাকার শিউলী(যারা খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করেন) খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ শুরু করেন। এবছরও এই সকল এলাকার গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহ করে তা থেকে তৈরি করছেন নলেন গুড়।

চন্দুল এলাকার মামুন মিঞা জানান ২২বছর ধরে তিনি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে নলেন গুড় তৈরি করছেন। তিনি যখন প্রথমে নলেনগুড় বিক্রি শুরু করেন তখন প্রতি কেজি গুড় 6টাকা কেজি করে সোনামুড়া মহকুমার বিভিন্ন বাজারে বসে বিক্রি করতেন।

তবে এখন আর গুড় খুচরো বিক্রি করেন না, এখন পাইকারি বিক্রি করেন, পাইকাররা এবছর 90 থেকে 100 প্রতি কেজি দরে বাড়ী থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন। আর এই নলেন গুড় রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের অন্যান্য বাজারে 150 থেকে 180টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মজিদ মিঞা আরও জানান এবছর তিনি মোট 60টি গাছ কাটাছেন। প্রতিদিন 30 থেকে 32টি করে গাছ কাঁটা সম্ভব হয় বলেও জানান।

শীতের সকালে যখন কেউ লেপের উষ্ণতা ছেড়ে বের হতে চায়না তখন গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন রস সংগ্রহ করার কাজে। রস সংগ্রহ করার পর শিউলী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মিলে এই রস একটি বড় কড়াইতে ঢেলে আগুনে জ্বাল দেন। দুই থেকে আড়ই ঘণ্টা ধরে আগুনে জ্বাল দিলে তৈরি হয় নলেন গুড়।

অপর এক শিউলী আবু বরকত জানান তিনি গত 8বছর ধরে খেজুর গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত। মূলত শীতকালের ৩মাস ধরে চলে এই কাজ। গত বছর শীতের মরসুমে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় 50হাজার টাকা লাভ হয়ে ছিলো।

এবছর এখনো ঝাঁকিয়ে শীত পড়েনি, আগামী কিছু দিনের মধ্যে শীত বেশী করে পড়লে রসের পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করছেন শিউলীরা।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ