বনজ সম্পদ রক্ষার জ্ঞান নিতে ত্রিপুরায় অসমের টিম




আগরতলা: প্রাকৃতিও মানুষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বৈজ্ঞানীক পদ্ধতিতে জীবন যাপনের উপায় খোঁজতে কাজ করছে ভারত সরকারের প্রকল্প সেন্টার ফর ফরেষ্ট বেসড লাইভলিহোড এন্ড এক্সটেনশন'র ত্রিপুরা শাখা। তাদের কাজ দেখতে এখন ত্রিপুরায় আসাম রাজ্যের প্রতিনিধী দল।

দেশের বনাঞ্চলকে ধ্বংশ না করে বনের উপর নির্ভরশীল গ্রামীন ও পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত মানুষের জীবিকাকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো 'সেন্টার ফর ফরেষ্ট বেসড লাইভলিহোড এন্ড এক্সটেনশন'(সি এফ এল ই)। এই প্রকল্পটি রূপায়নে সহায়তা করছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ফরেষ্ট্রি রিচার্জ এন্ড এডুকেশন।

গত এক বছর আগে ভারত সরকারের সি এফ এল ই প্রকল্প ত্রিপুরা রাজ্যে কাজ শুরু করেছে। তাদের অফিস রাজধানী আগরতলার পার্শবর্তী গান্ধীগ্রাম এলাকায় এবং গান্ধীগ্রাম থেকে আরো খানিকটা দূরে হাতিপাড়া এলাকায় প্রত্যন্ত গ্রামে তারা গড়ে তোলেছেন তাদের গবেষনা ও প্রকল্প রূপায়নের স্থান। 

সি এফ এল ই'র প্রকৌশনী অফিসারদের প্রধান পবন কৌশিক জানান তারা মূলত প্রকৃতিকে ক্ষতি না করে কি ভাবে বাঁশ আহরণ করে জীবন যাপন করা যায়, বাঁশকে কি করে প্রক্রিয়াজাত করলে দীর্ঘ স্থায়ী হয়, বাড়ীঘরের পরিত্যাক্ত আবর্জনা থেকে কি ভাবে উন্নতমানের জৈব সার তৈরি করা যায়, মৌমাছি পালন ও বাড়ীতে ঔষধিগুন সম্পন্ন গাছের বাগান করার বিষয়ে তারা প্রশিক্ষন দিয়ে আসছেন। 

তিনি আরো জানা এই সব বিষয়ে গবেষনা ও প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য তারা একটি বিশেষ বাড়ী স্থাপন করেছেন হাতি পাড়া এলাকায়, যা পাঞ্চাই ফার্মার্স ক্লাব নামে একটি সংস্থা পরিচালনা করছে।  

মাত্র এক বছরেই সি এফ এল ই'র ত্রিপুরা ইউনিট তাদের গবেষনা ও জন কল্যানমুখী কাজের জন্য দেশের মধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। তাই তাদের কাজ কর্ম সরেজমিনে ক্ষতিয়ে দেখতে 'আসাম প্রজেক্ট অন ফরেষ্ট এন্ড বায়ো ডাইভারসিটি কনজারভেসন'র(এ পি এফ বি সি) ২১সদস্যের এক প্রতিনিধীদল সি এফ এল ই'র ত্রিপুরা শাখার কাজকর্ম ঘুরে দেখে শিখতে এসেছেন। তারা সাত দিন ধরে ঘুরে দেখবেন কাজ কর্ম। বুধবার(২২ফেব্রুয়ারি) ছিলো আসাম থেকে আগত দলের তৃতিয় দিন। এদিন তাদেরকে প্রথমে খাতায় কলমে জৈব সার তৈরির বিষয়ে ও বন থেকে ফুল ঝাড়ু আহরনের বিষয়ে সম্মক জ্ঞান দেওয়া হয় ও পরে সরেজমিনে জৈব সার তৈরির বিষয়টি দেখানো হয়। 

আসাম থেকে আগত প্রতিনিধিরা জানান তারা এখানে এসে অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন। নিজ রাজ্যে ফিরে গিয়ে তারা তা মাঠ পর্যায়ে কাজে লাগাবেন যার ফলে তারাও সাধারণ মানুষের জীবন ধারণের কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করবেন বলেও জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ