উন্মোচন - রীতা শিব


হ্যালো! এই যে, আপনি! হ্যাঁ, আপনাকে। আপনাকেই বলছি।
ভারি অদ্ভুত তো আপনি! মুখ ঘুরিয়ে গা ঘেঁষে বসে আছেন!

আপনি কে বলুন তো? কী চাই আপনার?

ও আচ্ছা! আপনি?

হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। বহুবছর পর আমাদের দেখা।

তো কেমন আছেন? কেমন ছিলেন?
জানেন তো, মোটা মাথা আমার। আপনার এত প্যাচালো কথা বুঝিনা। বরং আপনার ভেতরের পোষা কুকুরটার কথা কিছু বলুন ;
এখনো কী....?

যাকগে, বহুবছর তো হয়ে গেল। দেখছেন তো সময় কীভাবে সব বদলে দেয়!

হা হা হা | ঠিক বলেছেন....
বহুবছর পর আমাদের দেখা! কোথায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরবো, তা না করে কুকুর নিয়ে কথা বলছি।

আরে হ্যাঁ, আপনি এখনও বেঁচে?!
আশ্চর্য্য তো! আপনাকে সেই কবে খুন করা হয়েছিল! হে হে...আমি নিজের হাতে আপনাকে খুন করেছিলাম। যতটুকু মনে পড়ে, আপনার শরীরের সেই আঁশটে গন্ধটা আমাকে বাধ্য করেছিল খুন করতে।

এখনও মরেন নি? তবে সেই যে গলা টিপে....!
সত্যিই বেঁচে আছেন? না সব হ্যালুসিনেশন?

আচ্ছা, আপনি বেঁচে উঠলেন কীভাবে? নাকি মরেননি? কিংবা ভূত হয়ে....!

কী বললেন? একসময় আপনাকে 'তুমি' করে বলতাম!
হয়তো বলতাম। তখন তো আপনি ছিলেন অবিচ্ছেদ্য! কিন্তু তা বলে এখন!! না না না....

আবার খুনের কথা বলছেন?
বললাম না একবার! আপনার শরীরের আঁশটে গন্ধটাই আপনার মৃত্যুর কারণ।

তারপর....আপনি বুঝি....?
বাহ্ বাহ্! আপনার লেজুড়বৃত্তিকে এখনও ঠিক বলছেন!
কী বললেন? অন্যরাও করছে! তারা বহাল তবিয়তে আছে!
তা থাকুক। তাদের আচরণ আমার বিবেচ্য নয়। ওরা নিশ্চয়ই আমার কলকাঠি নয়।

এই দেখুন, দেখছেন তো শক্ত আবরণে কেমন আপোসহীন, নির্ঝঞ্ঝাট আছি।

একসময় আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছায় সকাল-বিকাল-রাত ছিল।
আর এখন! আপনার ধরাছোঁয়ার বাইরে কেমন রাতের কালো পাল্টে গোলাপী। ধূসর মাঠ সবুজ। আপনার খামখেয়ালিপনার ছাপ ছিল সর্বত্র।

এতকিছু মনে রেখেছি কী করে?
আপনাকে খুন করার আগে সব লিখে রেখেছিলাম ডায়েরির পাতায় কালো অক্ষরে।

মনে নেই? সেদিন শান্তিপাড়া থেকে ঘুরে এসে সুইসাইডনোটে টুকে রাখা মৃত্যুকায়দার অনুকরণে কেমন গলা টিপে আপনাকে খুন করলাম!

কী বললেন? প্রয়োজন?
না না না...ভুল ভাবছেন। মানুষ বারবার তো আর ভুল করতে পারেনা, বলুন!


আপনি একটু দূরে সরে দাঁড়াবেন, প্লিজ। আপনার গায়ের আঁশটে গন্ধটা বড্ড নাকে লাগছে। দম বন্ধ হয়ে আসছে।

সরুন সরুন সরুন বলছি। শেষবারের মত করে বলছি আপনাকে।


জানেন, আজ আপনাকে খুন করতেও ঘৃণা হয় আমার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ