বিপ্লবের ইতিবৃত্ব



একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরা আসার সময় মায়ের গর্ভে ছিলেন ত্রিপুরা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন প্রাণ বাঁচাতে গর্ভবতী স্ত্রী মিনা রানী দেবকে নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আসেন হিরুধন দেব। আসারপর একটি হাসপাতালে ফুটফুটে চাঁদের মতো সুন্দর এক পুত্রসন্তান জন্ম দেন মিনা রানী। তার নাম রাখা হয় বিপ্লব কুমার দেব।
তিনি আজ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরায় না গেলে বাংলাদেশের চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলাতেই তার জন্ম নেয়ার কথা ছিল।

বিপ্লব কুমার দেবের পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা-মা ত্রিপুরা চলে আসার পর স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান তারা। তবে আত্মীয়-স্বজন অনেকে এখনো কচুয়ায় বসবাস করছেন। তার কাকা প্রাণধন দেব কচুয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সভাপতি। ছোট কাকাও কচুয়ায় থাকে।

বিপ্লব দেব তিন বোনের একমাত্র ভাই।
কচুয়ায় বিপ্লব দেবের যাতায়াত রয়েছে বহু বছর ধরে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের সময়ও তিনি গ্রামের বাড়িতে আসেন। ত্রিপুরা রাজ্যের ফলাফল ঘোষণার পর গতকাল রোববার মোবাইল ফোনে কাকা-ভাতিজার কথা হয়েছে। তখন বিপ্লব বলেছেন, ‘কাকু আমার বাবা তো নেই। তুমিই তো আমার অভিভাবক। আশা করছি আমি মুখ্যমন্ত্রী হবো। হলে তুমি কিন্তু আমার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্যের বিধান সভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপ্লব কুমার দেবের নেতৃত্বে বিজেপি ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসন পায়। বিপ্লব কুমার দেব নিজেও বনমালীপুর আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি।

বিপ্লব দেব ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব গ্রহন করে ছিলেন ২০১৬ সালে ৭ জানুয়ারি। আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। এ কারণে বিপ্লব কুমার দেব গত ১৫ বছর দিল্লিতে ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ