শিল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে রাজ্যে আসছে চিনের প্রতিনিধিদল





আগরতলা: ত্রিপুরায় শিল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সেপ্টেম্বরে রাজ্যে আসছে চিনের শিল্পদ্যোগীদের একটি প্রতিনিধিদল। চিনে গিয়ে সে দেশের শিল্পদ্যোগীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ৷ চিন থেকে ঘুরে এসে স্বাস্থ্য ও তথ্য প্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ রবিবার জানিয়েছেন, রামমাধবের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মোট ১০ সদস্যের এক মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চিনের শিল্পোদ্যেগীদের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন৷ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা থেকে সুদীপ রায় বর্মণ ছাড়া গিয়েছিলেন অসম ও নাগাল্যান্ডের দুইজন মন্ত্রী৷ এছাড়া, উত্তর প্রদেশ সহ অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীরাও প্রতিনিধিদলে ছিলেন৷ বৈঠকটি হয়েছিল চিনের গোয়াংঝাও শহরে৷ এখানে চিনের বিভিন্ন শহর থেকে শিল্পোদ্যোগীরা এসেছিলেন৷ বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের যে সকল এলাকায় এখনো শিল্পের ছোঁয়া সেই অর্থে লাগেনি সেই অঞ্চলগুলি সম্পর্কে শিল্পোদ্যোগীদের আগ্রহ বাড়ানো৷ তিনি জানান, তিনি নিজে, ত্রিপুরায় শিল্পের কি কি সম্ভাবনা রয়েছে এবং এখানে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কি কি সুবিধা রয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত একটি উপস্থাপনা দিয়েছেন৷

এ প্রসঙ্গে ত্রিপুরায় স্বাক্ষরতার উচ্চহার, মেধাসম্পন্ন শ্রমিক, হাইস্পিড ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন ইতিবাচক দিকগুলিও তুলে ধরেছেন৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরায় শিল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ চিনের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যে আসবে৷ সেপ্টেম্বর মাসে সে দেশের একটি প্রতিনিধিদল গুয়াহাটিতে আসবে৷ সেখানে উত্তর পূর্বের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার পর প্রতিনিধিদলটি ত্রিপুরায় আসবে৷ এখানে এসে সমস্ত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে তারা৷ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরকে কে কেন্দ্র করে শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদলটি ত্রিপুরার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে তারা৷ তিনি জানান, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র একশো কিলোমিটারের মত৷ ইতোমধ্যে দুই দেশের সংযোগস্থল ফেনি নদীর উপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে৷ তা হলে ত্রিপুরা হয়ে উঠবে গোটা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার৷ সবকিছু জানার পর চীনের একটি শিল্পোদ্যোগী প্রতিনিধিদল ত্রিপুরা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি৷ তিনি আরও বলেন, দুই দিনের বৈঠকে শিল্প, বাণিজ্য, উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ ত্রিপুরার প্রেক্ষাপটে আলোচনা করতে গিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বাঁশ জাত শিল্প, সার কারখানা সহ আরও সম্ভাবনাময় বিষয় তুলে ধরা হয়েছে৷ সুদীপ রায় বর্মণ জানান, বাজার ও বাজারের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ, উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্য, মায়ানমার সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির কথা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেছেন৷ চারদিনের চিন সফর সেরে শুক্রবার আগরতলায় ফিরে এসেছেন সুদীপ রায় বর্মণ৷ ত্রিপুরায় শিল্প স্থাপনে চারদিনের চিন সফরে যথেষ্ট আশাবাদী বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন তিনি৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ