প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ ও লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়


নিউজ ওয়ার্ল্ড বাংলা, কলকাতা: চলে গেলেন প্রাক্তন সাংসদ, লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ১৩ অগস্ট, সোমবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি মৃত্যু সময়ে উনার বয়স ছিল ৮৯ বছর। রক্তে সংক্রমণ হওয়ায় ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে।

কিছুদিন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল উনার, অসুস্থতার কারণে। অল্প সুস্থ হওয়ায় ১ অগাস্ট বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় উনাকে। এরপর আবার অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার গভীররাতে একই হাসপাতালে উনাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। রক্তে সংক্রমণ হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। চলছিল ডায়ালিসিস। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোমনাথবাবু ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজ়িজে (COPD) আক্রান্ত ছিলেন।


১৯২৯ সালের ২৫ জুলাই অসমের তেজপুরে জন্ম সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের। প্রেসিডেন্সি কলেজের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়- পড়াশোনার শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি দেন তিনি। সেখানে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন সোমনাথ। ফিরে এসে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী হিসাবে পেশা শুরু। ১৯৬৮ সালে বাম রাজনীতিতে যোগদান করেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ১৯৭১ সালে বর্ধমান লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন যে কেন্দ্রটি তাঁর বাবার মৃত্যুতে খালি হয়ে পরে। ১৯৮৯-২০০৪ সাল পর্যন্ত বোলপুরের সাংসদ ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। সাংসদ থাকাকালীন বোলপুরের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন তিনি। বোলপুর-বর্ধমান বাইপাস, বোলপুরের প্রথম মহিলা  কলেজ নির্মাণ, শান্তিনিকেতন শ্রীনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদ-সবই নির্মীত হয়েছিলেন তাঁরই তত্ত্বাবধানেই।

বরাবরই সুবক্তা ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। দলের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছিল, তবে রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও গণতান্ত্রিক ভিতকে মজবুত করতে নানাসময়ে মতপ্রকাশ করেছেন। তিনি চলে গেলেন, রেখেন গেলেন বর্ণময় অনুকরণীয় রাজনৈতিক জীবন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ