নির্যাতিতার পাশে মহিলা মোর্চা



আগরতলা: স্বামীর অনুপস্থিতিতে দুই ভাসুদের লালসা না পূরণ করায় নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এক গৃহ বধু। তাকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন মহিলা মোর্চার এক প্রতিনিধি দল। 

এই ঘটনা ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার কলমচৌড়া থানাধীন বক্সনগর এলাকায়। এই এলাকার বাসিন্দা মোহম্মদ রাসেল আলম'র সঙ্গে গত ছয় মাস আগে বিয়ে হয় এই জেলার বিশালগড় এলাকার বাসিন্দা পারভিন আক্তারের। মোহম্মদ আলম ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে(বি এস এফ) কর্তরত এবং বর্তমানে সে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে রয়েছে। 

স্বামীর অনুপস্থিতিতে পারভিনের দুই ভাসুর তাকে মানসিক ও শারিরিক নির্যাতন চালায়। এমনকি কুপ্রস্তাবদেয়। রবিবার(২৬ মে) এই নির্যাতন চরম আকারে করা হলে পারভিনকে তার শ্বশুড় ও শ্বাশুড়ি মিলে স্থানীয় কলমচৌড়া থানায় নিয়ে যান এবং দুই ভাসুরের নামে মামলা করে। 


এই খবর শুনে দুই ভাসুর মিলে রবিবার(২৬ মে) রাতে পারভিনকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকার চেচামেচি শুনে অন্যঘর থেকে শ্বশুড় ও শ্বাশুড়ি এবং পাড়া প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বক্সনগর প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু তার শরীরে ৮০শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাতেই আগরতলার সরকারী মেডিক্যাল কলেজ ও জিবি হাসপাতালে পাঠায় বর্তমানে সে এখানে চিকিৎসাধীন। 

এই ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিপুরা প্রদেশ বি জে পি'র মহিলা মোর্চার এক প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে পারভিনকে দেখে আসেন। এদিন এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী পাপিয়া দত্ত, সহসভানেত্রী পূর্ণিমা রায়, সাধারণ সম্পাদিকা রত্না সিনহা, সম্পাদিকা রত্না দেবনাথসহ অন্যান্যরা। তারা এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। 

তবে অভিযুক্ত দুই ভাসুর বর্তমানে পলাতক বলে জানা গিয়েছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ